الصلوۃ والسلام علیک یا رسول اللہ (صلی اللہ علیہ وسلما) اللہ رب محمد صلی علیہ وسلما و علی زویہ والہ ابدالدھور وکرما আসসলাতু ওয়াসসলামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম).
Gulam-E-Mustafa Hoon Din Ka Paigam Laya Hoon, Pilaan-E-Ke Liye Ahmad Raza Ka Jaam Laya Hoon.

বিষয়:- কুরবানী করার নিয়ম ও কুরবানীর মাংস ইত্যাদির বিবরণ


কুরবানী করার  পূর্বে পশুকে পানাহার  করিয়ে   দিবে। অস্ত্রকে  ভালো করে  ধার দিয়ে দিবে।  পশুকে  বাম   কাত করে শোয়াবে যাতে  তার মুখ  কিবলা দিকে হয়ে   থাকে।   নিজের   ডান  পা   পশুর   সামনের  ডান    রানের উপর রেখে ধারালো অস্ত্র দ্বারা দ্রুত  জবেহ  করে দিবে। 

জবেহ করার পূর্বে - 
"ইন্নি    ওয়াজজাহতু     ওয়াজহিয়া    লিল্লাজী      ফাতারস সামাওয়াতি   ওয়াল    আরদ্বা   হানিফাউ   ওয়ামা    আনা মিলান মুশরিকীন"

"ইন্না      সালাতী        ওয়া       নুসুকী      ওয়া      মাহ      ইয়াইয়া ওয়ামামাতী লিল্লাহী  রব্বিল  ‘আলামীন। লা  শারীকা  লাহু    ওয়াবি    জালিকা     উমিরতু     ওয়া     আনা      মিনাল  মুসলেমীন আল্লাহুম্মা লাকা ওয়ামিনকা বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর"

যদি   কুরবানী   নিজের   পক্ষ   হতে   দেয়া   হয়   তাহলে  জবেহ করার পর বলবে - 
"আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন্নী কামা তাকাব্বালতা মিন খলিলিকা ইব্রাহীমা আলাইহিস সালাম ওয়া হাবীবিকা মুহাম্মাদিন              সাল্লালাহু              তায়ালা              আলাইহি  ওসাল্লালাম"

জবেহ   এমনি   ভাবে   করতে   হবে   যাতে   চারটি   শিরা  কেটে  যায়,  কমপক্ষে  তিনটি  শিরা  কাটা জরুরী। খুব  বেশি কেটে গরদানের হাড়  পর্যন্ত  অস্ত্র পৌঁছিয়ে দেয়া উচিৎ নয়, তাতে বিনা কারণে পশুকে বেশি কষ্ট দেয়া    হয়।      জবেহ     করার      পর    যতক্ষণ     পর্যন্ত সম্পূর্ণ ঠান্ডা না    হয়ে যায়  ততক্ষণ পর্যন্ত তার   পায়ের শিরা কাটা চামড়া ছাড়ানো উচিৎ নয়। 

যদি   কুরবানী  অন্যের   পক্ষ   হতে    করা  হয়    তাহলে জবেহ করার পর বলবে - 
"আল্লাহুম্মা          তাকাব্বাল          মিন          ফুলানিন          কামা  তাকাব্বালতা                মিন                খলিলীকা                ইব্রাহীমা  আলাইহিসালাম ওয়া হাবীবিকা মুহাম্মাদিন সাল্লালাহু তায়ালা আলাইহি ওসাল্লালাম"। 

"ফুলানিন"  এর  স্থলে   যার  নামে    কুরবানী  হবে  তার নাম   উচ্চারণ    করতে   হবে।   অনুরূপ   যদি      একাধিক ব্যক্তির নামে কুরবানী করা হয় তাহলে ফুলানিন এর জায়গায় নাম উউচ্চারণ করতে হবে  
কুরবানীর মাংস ইত্যাদির বিবরণ 

মাসয়ালা  (১)    -  কুরবানীর   মাংস    নিজে  খেতে   পারে অথবা   কোনো গরীব অথবা  কোন ধনীকে ও     প্রদান করতে  পারে।  কুরবানী  দাতার     জন্য  কুরবানী   মাংস খাওয়া  মুস্তাহাব।   কুরবানীর  মাংস  তিন   অংশ   করা   মুস্তাহাব।        একাংশ           গরীবের        জন্য,        একাংশ  আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং এক অংশ নিজের জন্য রাখবে।   একাংশের কম দান করা  উচিৎ নয়।  সমস্ত  মাংস     সাদকা   করে   দেয়া    জায়েজ।   অনুরূপ   সমস্ত মাংস নিজের জন্য রেখে দেয়াও জায়েজ। তিন দিনের অধীক    কুরবানীর   মাংস   রেখে  খাওয়া   জায়েজ।  যদি কুরবানী  দাতা   গরীব হয়  এবং  সংসারে   অনেক মানুষ থাকে, তাহলে নিজের বাড়ির জন্য সমস্ত মাংস রেখে দেয়া উত্তম। (আলমগীরি)

মাসয়ালা  (২)   -  ভারতীয়  অমুসলিম   হারবী    কাফের। কুরবানীর   মাংস  হারবী কাফেরকে  দেয়া জায়েজ নয়। (বাহারে       -     শরিয়াত     ও      কানুনে       -     শরিয়াত       ও আনওয়ারুল - হাদীস)। 

- বিশেষবিজ্ঞপ্তি –
=========
কাফের     তিন   প্রকার।   যথা   -    মুস্তামিন,    জিম্মী,  হারবী। 
যে কাফের মুসলিম বাদশাহর নিকট থেকে  আশ্রয়ের  অনুমতি  নিয়ে  মুসলিম দেশে  এসেছে  তাকে   বলা হয়  মুস্তামিন।  যে  কাফের  মুসলমান   বাদশাকে    জিজিয়া দেবার শর্তে মুসলিম দেশে  বাস করে তাকে বলা হয় জিম্মী। যে  কাফের নিজ  ধর্ম পালনে স্বাধীন  তাকে বলা হয় হারবী। 

প্রকাশ   থাকে    যে,   হারবী  কাফেরের  হুকুম  সম্পূর্ণ সতন্ত্র।  এবার  এখানকার  কাফেররা  কোন  পর্যায়  পড়ছে  তা লক্ষ্যনীয়।  আরো প্রকাশ থাকে যে হুজুর সাল্লালাহু তায়ালা আলাইহি ওসাল্লামের যুগে মক্কা ও   মদীনা    শরীফে    হারবি   কাফের   ছিলোনা।   সুতরাং হাদীস   পাকে   যে  কাফেরকে  মাংস  দেয়ার   কথা  বলা  হয়েছে  সে কাফের ছিলো জিম্মী।  তা বোঝার মতো বোধ    ওহাবীদের  মধ্যে  নেই।  তাই   তারা   এখানকার অমুসলিমকে      কুরবানী     মাংস     দেয়া     জায়েজ      বলে  থাকে।

মাসয়ালা    (১) - যদি কুরবানী মান্নতের  হয়, তাহলে    কুরবানী  দাতা   গরীব   হলে   ও  নিজে  খেতে   পারবেনা  এবং     কোনো    ধনীকেও     খাওয়াতে    পারবেনা।    বরং সমস্ত  মাংস  সাদকা করে  দেয়া ওয়াজিব। (যায়লাই, ও বাহারে শরীয়ত) 

মাসয়ালা  (২)  -  মৃত    ব্যক্তির   পক্ষ   হতে    কুরবানী করলে  তার   মাংস  নিজে   খেতে  পারে।  ধনী  ও  গরীব সবাইকে  খাওয়াতে  পারে।   তিন  অংশ  করতে  পারে।  প্রয়োজনে  সমস্ত মাংস নিজের জন্য রাখতে পারে। অবশ্য   মৃত  ব্যক্তি    যদি   তার  পক্ষ  হতে  কুরবানী  করার জন্য অসীয়ত  করে  যায়, তাহলে সমস্ত মাংস  সাদকা করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার) 

মাসয়ালা     (৩)    -   কুরবানীর   চামড়া    এবং   তার   দড়ি ইত্যাদি        সমস্ত       জিনিস      সাদকা      করতে       হবে। কুরবানীর     চামড়া    বিক্রয়    না     করে     নিজের    কাজে ব্যবহার    করতে    পারে।    যথাঃ    নামাজের    মুসাল্লা,  মশক, থলী ইত্যাদি করা জায়েজ (দুররে মুখতার)। 

মাসয়ালা (৪)  - কুরবানী চামড়া দ্বারা নিজের কোনো  প্রয়োজনীয়   জিনিষ    তৈরি   করলে   তা   ভাড়ায়    দেয়া জায়েজ। যদি  ভাড়ায় দিয়ে  থাকে  তাহলে  সেই  পয়সা সাদকা করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার) 

মাসয়ালা (৫) - কুরবানী চামড়ার পরিবর্তে  কোরআন শরীফ ও কিতাব নেয়া জায়েজ। (দুররে মুখতার) 

মাসয়ালা  (৬)  -  কুরবানীর  চামড়া   অথবা  তার   পয়সা এক   ব্যক্তিকে    অথবা  একাধিক  ব্যক্তিকে  সাদকা করা  জায়েজ।  কুরবানীর  চামড়া  অথবা  পয়সা  দ্বীনি  মাদ্রাসা দেয়া জায়েজ। (বাহারে - শরিয়াত ও কানুনে - শরীয়ত) 

মাসয়ালা (৭)  - ওহাবী দেওবন্দী মাদ্রাসায়  জাকাত, উশুর   ও     কুরবানী    এবং    ফিতরার   পয়সা    দান   করা হারাম।    অনুরূপ    তাবলীগ    জামায়াত     ও    জামায়াতে  ইসলামী   তহবিলে দান করা  ও হারাম  (ফাতাওয়ায়ে - উলামায়ে - আহলে - সুন্নাত)।

মাসয়ালা (৮) - কুরবানীর মাংস ও চামড়ার পরিবর্তে কোনো      খাদ্যদ্রব্য      গ্রহণ       করা      জায়েজ       নয়। পরিবর্তন করলে সাদকা করতে হবে। (দুররে মুখতার ও হিদায়া) 

মাসয়ালা     (৯)      –       কুরবানীর      পশুর     চর্বি,     পশম ইত্যাদির     পরিবর্তে       কোনো     খাদ্যদ্রব্য     গ্রহণ করলে সাদকা করতে হবে (আলমগিরী)।

মাসয়ালা (১০)   -  কুরবানীর মাংস,  চামড়া অথবা তার অন্য  কোনো অংশ জবেহ করার পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া জায়েজ নয়। (হিদায়া) 

মাসয়ালা    (১১)  -   কষাইকে   অথবা  যারা  মাংস   তৈরি করে থাকে, তাদের  পারিশ্রমিক হিসেবে  মাংস    দেয়া জায়েজ  নয়। পারিশ্রমিক   হিসেবে  পয়সা দেয়া হবে। অবশ্য অন্য   মুসলমানদের ন্যায় তাদের মাংস  দেয়া জায়েজ। (বাহারে - শরিয়াত) 

মাসয়ালা   (১২)  -     চিহ্ন  স্বরূপ  ভেড়ার  লোম   কেটে নিলে তা   ফেলে  দেয়া জায়েজ  নয়। বরং সাদকা  করে দিতে হবে (আলমগীরী) 

মাসয়ালা  (১৩) - নিজের  কোনো কাজের  জন্য জবেহ করার পূর্বে কুরবানীর পশুর পশম কেটে নেওয়া, দুধ দহন   করা,  পশুর  পিঠের   উপর  আরোহণ  করা,    তার পিঠের  উপর করে কোনো জিনিষ বহন করা ও পশুকে ভাড়ায়   দেয়া   ইত্যাদি   মাকরূহ   এবং   নিষেধ   (দুররে  মুখতার ও রদ্দুল মুহতার)। 

মাসয়ালা (১৪) - জবেহ   করার পর  পশুর পশম  কেটে নিজের  কাজে  ব্যবহার  করা  জায়েজ।  অনুরূপ  জবেহ  করার   পর  দুধ  দহন  করে  নিজে  পান   করতে   পারে। (আলমগীরি) 

মাসয়ালা  (১৫)  -  কুরবানী  করার  পূর্বে  পশুর  বাচ্চা  হয়ে   গেলে   বাচ্চাকেও  জবেহ  করে  দিতে  হবে।  যদি বাচ্চাকে    বিক্রয়    করে    থাকে    তাহলে    তার    পয়সা  সাদকা করে দিতে হবে।      যদি জবেহ   করা না  হয়  বা বিক্রয়        করা     না     হয়     এবং     কুরবানীর     দিনগুলো  অতিক্রম হয়ে  যায়  তাহলে জীবিত  অবস্থায়  সাদকা করে   দিতে  হবে।  যদি কিছুই করা   না হয় এবং পরের বৎসর   তাকে   কুরবানী   করে   থাকে   তাহলে   কুরবানী  জায়েজ হবে না। পুনরায় কুরবানী করতে   হবে। উক্ত জবেহ      করা     সমস্ত     মাংস     সাদকা       করতে      হবে (আলমগিরী)। 


Sign In or Register to comment.