الصلوۃ والسلام علیک یا رسول اللہ (صلی اللہ علیہ وسلما) اللہ رب محمد صلی علیہ وسلما و علی زویہ والہ ابدالدھور وکرما আসসলাতু ওয়াসসলামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম).
Gulam-E-Mustafa Hoon Din Ka Paigam Laya Hoon, Pilaan-E-Ke Liye Ahmad Raza Ka Jaam Laya Hoon.

বিষয়:- আহকামে নিয়ত- কোরআন শরীফ ও নিয়ত

আহকামে নিয়ত
লেখক:-মুহাম্মাদ সাদ্দাম হোসেন কালিমী  

কোরআন শরীফ ও নিয়ত
১। কোরআন শরীফে কয়েক স্থানে এখলাস ও ভাল নিয়তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে “এবং তার ইবাদত করো শুধুই তারই বান্দা হয়ে”(সূরা আরাফ আয়াত নং ২৯, তরজমা কানজুল ঈমান)
অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত একাগ্রতার সহিত করো, ইবাদতে লোক
দেখানো ভাব কখনো এনোনা ।
২। “সুতরাং আল্লাহর ইবাদত করুন নিরেট তারই বান্দা হয়ে ।”
(সূরা জুমার, আয়াত নং ২ , তরজমা কানজুল ঈমান)
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে নুরুল ইরফানে বর্ণিত হয়েছে যে, সুফিয়ায়ে কেরাম বলেন-বান্দা ইবাদতে জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম হতে মুক্তিরও নিয়ত করবে না। নিছক আল্লাহকে রাজী করার নিয়ত করবে, কেননা এটা বন্দেগী, ব্যবসা নয়। 
৩ । “এবং যে ব্যক্তি দুনিয়ার পুরস্কার চায়,আমি তা থেকে তাকে প্রদান করি।এবং যে পরকালের পুরস্কার চায়, আমি তা থেকে তাকে প্রদান করি।"
(সূরা আল ইমরান আয়াত নং ১৪৫, তরজমা কানজুল ঈমান)
অর্থাৎ-যে ব্যক্তি কোন আমল জাগতিক উপকারের নিয়তে করল, যেমন মাসজিদ, মাদ্রাসা এজন্য নির্মান করল যেন তার প্রশংসা করা হয়, মানুষের মাঝে তার মান সম্মান বেড়ে যায় । বা নামাজ ইত্যাদির পাবন্দী এই জন্য করল যে, মানুষ তাকে ধর্মভীরু ও সৎ মনে করে বা গরীব মিসকিনের সাহায্য
করল যেন লোকে তাকে দানশীল মনে করে, এই সব ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা তার উদ্দেশ্য দুনিয়াতে পূরণ করবেন। কিন্তু পরকালে সে হবে বঞ্চিত ও লাঙ্কিত,
যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের রেজা (সন্তুষ্টি) ও পরকালের নেকী পাওয়ার নিয়তে কোন নেক আমল করল, তো আল্লাহ তাকে ইহজগতেও দিবেন আর পরজগতেও পুরস্কার ও সম্মান প্রদান করবেন।
 যে ব্যক্তি দুনিয়ায় পুরস্কার চায় তবে আল্লাহরই নিকট দুনিয়া ও আখিরাত উভয়েরই পুরস্কার রয়েছে" (সূরা নিসা আয়াত ১৩৪, তরজমা কানজুল ঈমান)
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় স্বদরুল আফাদিল মুফতী নঈমুদ্দীন মোরাদাবাদী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন-যে ব্যক্তির স্বীয় কর্মের বিনিময়ে দুনিয়াই উদ্দেশ্য থাকে এবং তার উদ্দেশ্য এতটুকুতে সীমাবদ্ধ হয় আল্লাহ তাকে তা দিয়েদেন।
এবং আখিরাতের সওয়াব থেকে সে বঞ্চিত থাকে।
আর যে ব্যক্তি কর্ম আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকালের সওয়াবের উদ্দেশ্যে করে, তবে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের মধ্যে সওয়াব প্রদানকারী । সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট থেকে শুধু দুনিয়া তথা ইহকালের প্রার্থী হয় সে মূস্থ
নিকৃষ্ট এবং কাপুরুষ। (খাজাইনুল ইরফান)
৫। “যে আখিরাতের ফসল চায়,আমি তার জন্য তার ফসল বৃদ্ধি করে দিই । আর যে দুনিয়ার ফসল কামনা করে আমি তাকে তা থেকে কিছু প্রদান করবো।
এবং আখিরাতে তার কোন অংশ নেই  (আল কোরয়ান)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আখেরাতের উপকারের নিয়াতে আমল করবে,আল্লাহ নেকী।
করার সামর্থ আরো বেশী দান করবেন। তার জন্য কল্যাণও এবাদতের পথ সুগম করে দিবেন। তার আমলের সওয়াব বৃদ্ধি করে দিবেন। আর যার আমল হবে। দুনিয়া পাওয়ার জন্যআল্লাহ তাকে তা থেকে কিছু দিয়ে দিবেন।
কিন্তু আখেরাতে তার কোন প্রাপ্য নাই,কেননা সে আখেরাতের জন্য আমলই করেনি ।
৬। যার করার আছে তার ‘সুতরাং আপন প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাত আশা উচিৎ ,যেন সে সূকর্ম করে এবং সে যেন আপন প্রতিপালকের ইবাদতে অন্য কাউ কেও শরীক না করে । (সুরা কাহাফ শেষ আয়াত,তরজমা কানজুল ঈমান)
অর্থাৎ সে বড় শির্ক থেকেও বাঁচবে,আর রিয়া বা লোক দেখানো থেকে বেঁচে থাকবে যাকে ছোট শির্ক বলে ।
Sign In or Register to comment.