الصلوۃ والسلام علیک یا رسول اللہ (صلی اللہ علیہ وسلما) اللہ رب محمد صلی علیہ وسلما و علی زویہ والہ ابدالدھور وکرما আসসলাতু ওয়াসসলামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম).
Gulam-E-Mustafa Hoon Din Ka Paigam Laya Hoon, Pilaan-E-Ke Liye Ahmad Raza Ka Jaam Laya Hoon.

নববর্ষ উদযাপন করা ইসলামি দৃস্টিতে হারামl

★নববর্ষ উদযাপন ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে হারাম
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

নববর্ষ হচ্ছে বিধর্মীদের কালচার মুসলীমদের জন্য পালন করা হারাম

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান, একজন মানুষের সুষ্ঠু-সুন্দর জীবন পরিচালনার জন্য ইসলামী জীবনাদর্শই যথেষ্ট,

অন্য কোন জীবনাদর্শ হতে তাকে ধার করতে হয়না। কারণ ইসলাম সকল যুগ ও অবস্থানে পূর্ণ উপযোগী, কোন ঘাটতি ও ত্র“টি কোন সময় ছিলনা এবং থাকবেও না।

কেনই বা থাকবে? বিশ্ব জগতের স্রষ্টা প্রতিপালক মানব জাতির হায়াত মোউত, ধন দৌলত কল্যাণ অকল্যাণ সবকিছুর একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।

যেখানে পরিপূর্ণ ও মনোনীত একমাত্র দীন/জীবন বিধান হিসাবে ইসলামকেই দান করেছেন সেখানে কি অপূর্ণতা থাকতে পারে।

#আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিয়মাতকে সম্পূর্ণ করলাম আর তোমাদের জন্য দীন হিসাবে ইসলামকে মনোনীত করলাম।”

(((সূরা আল:মায়েদাহ: ৩)))))

অতএব পৃথিবীর বুকে মানব জাতির জন্য একটিই মাত্র পরিপূর্ণ দীন। জীবন বিধান যার নাম “ইসলাম” এছাড়া বাকী সকল জীবন বিধান পুঙ্গ-বিকলাঙ্গ, যা কখনই পরিপূর্ণ নয়।

কিন্তু বড় পরিতাপের বিষয় যে, মুসলিম সমাজের কর্মকান্ড যেন প্রমাণ করতে চায় ইসলাম পরিপূর্ণ নয়। সুতরাং অন্যদের কৃষ্টি কালচার, উৎসবের অনুকরণ প্রয়োজন রয়েছে, তাই তারা মুসলিম হওয়া সত্যেও অমুসলিমদের উৎসব পালনে ব্যকুল হয়ে যায়।

আমরা বলব না, না, না, ইসলাম কখনও অপরিপূর্ণ নয়। ইসলাম শিক্ষা-সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, তাহযীব তামুদ্দুন, ব্যক্তিত্ব ও সামাজিকতা সকল দিক থেকে ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনাদর্শ। ইসলামের প্রতিটি কাজ হল সার্থক, অনথর্ক নয়।

উপকারী অপকারী নয়। কল্যাণ কর অকল্যাণকর নয়। তাই ইসলাম প্রবৃত্তিপূজারীদের আমদ প্রমদ ও উন্মাদনাকে কখনই স্থান দেয়নি। মূলত : কোন বিবেকবানের বিবেক সক্রিয় থাকা পর্যন্ত ঐসব উন্মাদনার স্বীকৃতি দিতে পারেনা, যখন বিবেক ঢাকা পড়ে যায় তখন ঐসবের আশ্রয় নেয়।

অতএব নববর্ষকে কেন্দ্র করে আধুনিক সভ্যতার নামে ১লা জানুয়ারী বা #১লা বৈশাখ ইত্যাদি যে সব অসত্য কর্মকান্ড উদযাপন করা হয় এ সবই প্রতিবেশী মুশরিকদের এবং পাশ্চাত্যের কাফিরদের কৃষ্টি-কালচারের অনুকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।

কারণ ইসলামে যদি নববর্ষকে কেন্দ্র করে ১লা জানুয়ারী বা ১লা বৈশাখ ইত্যাদি উদযাপনের বিধান বা সুযোগ থাকত তাহলে ইংরেজী নববর্ষের দু’একদিন আগে পিছে বর্তমান সময়ে হিজরী নববর্ষ আসে,

কিন্তু গোটা মুসলিম বিশ্বে, এমন কি ইসলামের প্রাণকেন্দ্র মক্কা, মদীনাতেও নববর্ষ উদযাপন সম্পর্কে কিছু শুনা যায়না।

এতে প্রমাণিত হয় যে, নববর্ষ উদযাপন ইসলামী বিধান বা সভ্যতা নয় বরং ইহা প্রবৃত্তিপূজারী অমুসলিম মুশরিক, কাফিরদের আমদ-প্রমোদ ও উন্মাদনা সভ্যতা।

সুতরাং মুসলিম সমাজ যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীবনাদর্শ ও উতকৃষ্ট সভ্যতা দানের মাধ্যমে সম্মানিত করে শ্রেষ্ঠ জাতিতে সমাসীন করেছেন, তারা কিভাবে উন্মাদানাপূর্ণ অসভ্য সভ্যতার অনুকরণ করতে পারে?

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوَاْ إِن تُطِيعُواْ الَّذِينَ كَفَرُواْ يَرُدُّوكُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ فَتَنقَلِبُواْ خَاسِرِينَ
“(হে ঈমানদারেরা যদি তোমরা কাফিরদের অনুকরণ কর তাহলে তারা তোমাদেরকে তোমাদের পশ্চাতে (কুফরীর দিকে) ফিরিয়ে দিবে ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে।” (সূরা আলে ইমরান:১৪৯)

হে মুমিন ভাই ও বোন! আসুন একটু ভেবে দেখি নববর্ষ উদযাপন কিভাবে মুসলিম সমাজকে কুফরীর দিকে ঠেলে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

নববর্ষ উদযাপনে যে সব ইসলাম গর্হিত আকীদাহ বিশ্বাস ও কার্যে মানুষ লিপ্ত হয় তার কিছু নমুনা নিম্নে প্রদত্ত হল:

প্রথমত: কুলক্ষণ ও অশান্তিমূলক বিশ্বাস পোষণ করা: নববর্ষে মনে করা হয় এ দিনটি হলো বছরের প্রথম দিন, এ দিন শান্তিপূর্ণভাবে কাটলে গোটা বছর শান্তিপূর্ণভাবে কাটবে এবং এদিন অশান্তিতে কাটলে গোটা বছর অশান্তিতে কাটবে।

এ বিশ্বাস রেখেই এদিনে শান্তির পায়রা উড়ানো এবং আরো বহু ধরনের সাজগোছ ও অনুষ্ঠানের উদযাপন করা হয় এবং এসবের মাধ্যমে আসন্ন বছরের শান্তিপূর্ণ জীবন কামনা করা হয়।

আল্লাহর উপর আস্থা ও ভরসা না রেখে তার কাছেই কল্যাণ ও অকল্যাণের ধরণা না দিয়ে ঐ সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা জাহেলী বা অজ্ঞতা যুগের মুশরিকদের কর্ম ছাড়া কিছুই নয়। কারণ ঐসব কর্মকান্ডে প্রমাণিত হয় নববর্ষের দিনে কর্ম অকর্মেই রয়েছে কল্যাণ অকল্যাণ, মূলত কল্যাণ-অকল্যাণ সব কিছুই আল্লাহর হাতে, আল্লাহ বলেন:
أَلا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِندَ اللّهُ وَلَـكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لاَ يَعْلَمُونَ
“সাবধান জেনে রেখ তাদের অকল্যাণ তো শুধুমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই হাতে কিন্তু তাদের অধিকাংশই এ বিষয়ে অজ্ঞ কিছু জানেনা।” সূরা আলে ইমরান: ১৩১
তাদের এ শির্কী আকীদাহ পোষণ এবং কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ করে রাসূল (সা) বলেন:
الطيرة شرك الطيرة شرك.....و لكن الله

يذهبه بالتوكل ‘‘কুলক্ষণ নির্ণয় করা শির্ক, কুলক্ষণ নির্ণয় করা শির্ক, তবে আল্লাহ তা‘আলার উপর আস্তা ও ভরসার মাধ্যমেই এ শির্ক হতে বাঁচা সম্ভব।’’ (আবূ দাউদ হাদীস ৩৯১০, তিরমিযী হাদীস ১৬১৪) রাসূলুল্লাহ (সা) আরো বলেন:
ليس منا من تطير او تطيرله، أوتكهن أوتكهن له، أوسحر أو سحرله)
‘‘যারা কুলক্ষণ নির্ণয় করে এবং যার জন্য করা হয়, যারা গণনা করে এবং যার জন্য করা হয়, যারা যাদু কর্ম করে এবং যার জন্য করা হয় তারা আমাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।’’ (আল বাযযার, সনদ উত্তম হাদীস ৩০৪৪)।
অর্থাৎ রাসূল (সা) হলেন মুসলিম, পক্ষান্তরে যারা ঐসব কর্মে লিপ্ত হয় তারা শির্ক ও কুফরের লিপ্ত হওয়ার কারণে ইসলাম হতে বের হয়ে যাওয়ায় মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হয় না।
এতএব এ বিজাতীয় উৎসব নববর্ষ উদযাপনে মুসলিম সমাজ কোন পর্যায়ে পৌঁছে যায় একটু চিন্তা করা উচিত।

দ্বিতীয়ত: জ্যোতিষীর কাছে ধরণা দেয়া: নববর্ষে শুরু হয় জ্যোতিষীদের প্রচার প্রোপাগান্ডা, রাশিবিদদের রাশি গবেষণা এবং গণকদের গণনা। পেপার-পত্রিকা, রেডিও-টিভি সকল প্রকার মিডিয়া যেন ১লা জানুয়ারী বা ১লা বৈশাখে আকর্ষনীয় সংবাদ পরিবেশন করে- ‘‘আপনার রাশি চক্র জেনে নিন, আপনার ভাগ্য যাচাই করুন, আপনার ভবিষ্যত দেখে নিন,’’ ইত্যাদি। মুসলিম হওয়া সত্যেও কোন পরোয়া না করে, বরং অধির আগ্রহে নিজের ভবিষ্যত ও অদৃশ্য জানার জন্য ধরণা দেয় জ্যোতিষী, গণক ও রাশিবিদদের কাছে। অথচ সে বিশ্বাস করে অদৃশ্য ও ভবিষ্যতের চাবিকাঠি একমাত্র আল্লাহর কাছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لاَ يَعْلَمُهَا إِلاَّ هُوَ
‘‘এবং তাঁর (আল্লাহর) কাছেই শুধু অদৃশ্যের চাবিকাঠি, তিনি ছাড়া গায়েবী বিষয়ে আর কেউ জানেনা।’’ (আনআম : ৫৯)
একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কোন নাবী রাসূল, ফিরেশতা ও জিন-ইনসান কেওই অদৃশ্য ও ভবিষ্যতের মালিক নয়, এরপরও যদি কেউ জ্যোতিষী, রাশিবিদ ও গণকের কাছে ধরণা দেয় তার পরিণতিই বা কি হতে পারে। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন :
من أتى عرافا فسأله عن شئ لم تقبل له صلاة اربعين يوما
যে ব্যক্তি কোন জ্যোতিষী গণকের কাছে আসে এবং কিছু জিজ্ঞাসা করে তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হয়না।’’(সহীহ মুসলিম হাদীস২২৩০)
অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায় : রাসূল (সা) বলেন :
من أتى عرافا أوكاهنا فصدقه بما يقول فقد كفربما أنزل على محد صلى الله عليه وسلم
যে ব্যক্তি কোন জ্যোতিষী বা গণকের নিকট আসে এবং তার কথাকে সত্য মনে করে সে যেন মুহাম্মদ (সা) এর উপর অবতীর্ণ হওয়া (কুরআন সুন্নাহকে) অস্বীকার করে।
(আবু দাউদ হাদীস ৩৯০৪, আহমাদ-২/৪২৯, বায়হাকী -৮/১৩৫, হাকিম- ১/৮ সহীহ)। অতএব নববর্ষ উদযাপনের বিষয়গুলি একজন মুসলিমকে খুব সহজেই ঈমানহারা বানিয়ে দিচ্ছে। মানুষ ঘরে বসেই পেপার পত্রিকা ও মিডিয়ার মাধ্যমে জ্যোতিষী ও রাশিবিদদের কর্মকে উপভোগ করছে। এমতাবস্থায় পূর্ণ সজাগ ও সতর্ক ছাড়া ঈমান বাঁচানো খুব কঠিন। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন আমীন।

তৃতীয়ত : সূর্য পূজার শির্ক : নববর্ষের সূর্যকে বিশেষভাবে শ্রদ্ধা, সম্মান প্রদর্শন ও ভক্তি প্রদান করা হয় মনে হয়, যেন নবর্ষের এ সূর্যই আসন্ন বছরের কল্যাণ অকল্যাণের মালিক। তাকে ভক্তি জানালেই সে আমার গোটা বছরের কল্যাণ নিয়ে আসবে। এটা কি সূর্য পূজা নয়? ইহা কি শির্ক নয়?
অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
‘‘তোমরা সূর্যকে সিজদা করনা, চাঁদকেও না বরং তোমরা সিজদা কর একমাত্র আল্লাহকে যিনি ঐ সব কিছুর স্রষ্টা যদি তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করে থাক। (সূরা সাজদাহ : ৩৭)
ইসলামে যে সব সময়ে নামায শুরু করা নিষেধ হয়েছে, তন্মধ্যে সূর্য উদয় ও অস্ত যাওয়ার সময়। রাসূল (সা) বলেন : সূর্য শয়তানের মাথার দুই শিং এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং অস্ত যায়। অর্থাৎ সূর্য পূজারীদের পূজা পাওয়ার জন্য শয়তান ঐ দুই সময়ে সূর্যের কাছে অবস্থান নেয় এবং মনে করে যে মানুষ তাকেই সিজদা ও পূজা করছে।
অতএব নবর্বষের সূর্যকে যারা ভক্তি প্রর্দশন করে, কোন সন্দেহ নেই তারা সূর্য ও শয়তানের পূজারী মুশরিক কিন্তু দুঃখের বিষয় মুসলিম যুব সমাজই অতি উৎসাহে এসব কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে। আল্লাহ তাদের হিদায়াত দান করুন। আমীন।

চতুর্থত : নারী পুরুষে অবাধ বিচরণ : ইসলাম একটি শান্তিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা, সামাজিক জীবনে যেন শান্তি শৃংখলা ব্যহত না হয় সে জন্যই ইসলামে নারী পুরুষের অবাধ বিচরণ নিষিদ্ধ। কিন্তু মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও অমুসলিমদের অসভ্য কালচারে নববর্ষ পালনে নারী পুরুষ অবাধে বিচরণ করে চলেছে। অথচ ইসলামের বিধান হল : আল্লাহ বলেন :
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى
‘‘তোমারা তোমাদের গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে, জাহেলী যুগের অসভ্য নারীদের ন্যায় বিচরণ করবে না।’’ (সূরা আহযাব : ৩৩)
ইসলাম নারীদের গৃহে আবদ্ধ করে রাখেনি। বিশেষ প্রয়োজনে অবশ্যই বের হবে। কিন্তু নগ্ন-অর্ধনগ্ন হয়ে বা পরপুরুষের সাথে অবাধে বিচরণ করবেনা। বিশেষ করে যুব সমাজ, তাদের কাছে যেন পাশ্চাত্যের অসভ্য আচরণ খুবই চমকপ্রদ। আর এই নববর্ষই মোক্ষম সুযোগ যুবক যুবতীদের একাকার হয়ে যাওয়ার। সাজ সজ্জার বিপুল রদবদল, মেয়েদের অলংকার হার, বালা, দুল ইত্যাদি ছেলেদের পরনে, আর ছেলেদের সার্ট-পেন্ট ইত্যাদি মেয়েদের পরনে। রাসূল (সা) এর ভাষায় অভিশপ্ত এ সমাজ কিভাবে অগ্রগামী হতে পারে? সাহাবী ইবনে আব্বাস (রা) বলেন :
لعن رسول الله صله عليه وسلم المتشبهين من الرجال بالنساء والمتسبهات من النساء بالرجال
‘‘রাসূলুল্লাহ (সা) অভিশাপ করেন নারীদের সাথে সাদৃশ্য স্থাপনকারী পুরুষ এবং পুরুষদের সাথে সাদৃশ্য স্থাপনকারী নারীদেরকে।’’ সহীহ বুখারী হাদীস ৫৮৮৫
সাহাবী আবূ হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন :
لعن الله الرجل يبس لبسة المرأة، والمرأةتلبس لبسة الرجل
‘‘যে পুরুষ নারীর বেশ ধারণ করে এবং যে নারী পুরুষের বেশ ধারণ করে তার উপর আল্লাহর লানত বা অভিশাপ। (আবু দাউদ, সহীহ আল জামি হাদীস ৫০৭১)।
অতএব নববর্ষ উদযাপনের পরিণতি, আল্লাহর লানত পেয়ে অভিশপ্ত জাতিতে পরিণত হওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।

পঞ্চমত : গান বাজনা ও নৃত্যের আসর : ১লা জানুয়ারী বা ১লা বৈশাখে নববর্ষকে কেন্দ্র করে যে সব ইসলাম গর্হিত অপকর্মের আয়োজন হয় তন্মধ্যে অন্যতম হলো বাজনা ও নৃত্যের আসর। হাটে-বাজারে, কলেজে, ইউনিভার্সিটিতে ও পার্ক ইত্যাদি সকল স্পর্টে এমনকি অনেক বাড়ীতেও শুরু হয় বিকট আওয়াজে গান বাজনা। পরিবেশ শুধু নয় বরং বায়ু পর্যন্ত দুষিত হয়ে যায়। অশ্লীল হায়াহীন গানে যেন সমাজ কলুষিত হয়ে যায়। অধিকাংশ সমাবেশের স্পষ্টগুলো নগ্ন নর্তকীদের নৃত্যে শয়তানের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। এ ঘৃণিত পরিবেশ তৈরী হয় নববর্ষকে কেন্দ্র করে, ইসলামদ্রোহীদের ইসলাম বিধ্বংসী ষড়যন্ত্রের পদচারণা হিসাবে।
সকল আলিম সমাজের ঐকমত্যে এসব গান-বাজনা ও নৃত্যের আসর সম্পূর্ণরূপে হারাম। (মুহাররামাত- ৬৮.৬৯ পৃষ্ঠা)।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ - وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ آيَاتُنَا وَلَّى مُسْتَكْبِرًا كَأَن لَّمْ يَسْمَعْهَا كَأَنَّ فِي أُذُنَيْهِ وَقْرًا فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ
‘‘এক শ্রেণীর লোক রয়েছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ হতে পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা (অশ্লীল গাল-গল্প) সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে (আয়াতকে) নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে। এদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। যখন তাদের সামনে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তারা দম্ভের সাথে এমন ভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয় যেন তারা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন তাদের দু’কান বধির। সুতরাং এই প্রকৃতির ব্যক্তিকে যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সু-সংবাদ দিন।’’ সূরা লুকমান : ৬-৭
এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। গান বাজনা, নাটক থিয়েটার ও নৃত্যের আসরগুলি সত্যিই মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য হতে বাধা প্রদান করছে এবং গুমরাহিতে লিপ্ত রাখছে। ঐসব নামধারী মুসলিমদের মাঝে গান বাজনা বন্ধ রেখে যদি কুরআনের তিলাওয়াত চালু করা হয়, তাহলে তারা যেন ক্রোধে ফেটে পড়বে এবং দাম্ভিকতার সাথে সেখান হতে বের হয়ে যাবে। মনে হয় যেন তারা বধির, তাদের কানে কুরআনের আয়াত প্রবেশ করছেনা, এসব নামধারী মুসলিমদের জন্যই ধিক্কারের ছলে আযাবের সু-সংবাদ। অতএব এ নববর্ষ উদযাপন নিয়েএল ধিক্কার, লাঞ্ছনা ও যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
এ ছাড়া আরো নানাবিধ বিষয় নববর্ষকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয় যা ইসলামে শুধু অপছন্দনীয় নয় বরং প্রকাশ্য হারাম। তাই মুসলিম ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও দেশের উচিত অমুসলিমদের ইসলাম বিরোধী সকল প্রকার কর্মকান্ড সম্পূর্ণরূপে বর্জন করে সকল ক্ষেত্রে ইসলামী জীবনাদর্শ বাস্তবায়ন করা। মূলতঃ প্রতিটি মুসলিম দায়িত্বশীল ব্যক্তির চিন্তা করা উচিত যে, একটি বছর শেষ হয়ে গেল, বিগত দিনে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি কতটুকু পালন করেছেন। তেমনি লক্ষ করা কর্তব্য বিগত বছরে আমি কি আল্লাহর অবাদ্ধতায় লিপ্ত ছিলাম না আনুগত্যে লিপ্ত ছিলাম। অবাদ্ধতায় লিপ্ত হলে তা বর্জন করে তাওবা করে সঠিক পথে ফিরে আসা উচিত এবং কৃত অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ভবিষ্যতে সঠিক পথে চলার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা উচিত।
উল্লেখ্য যে, ইসলামদ্রোহী শক্তি এ নববর্ষে নতুন উদ্দমে আরো পরিকল্পনা গ্রহণ করে আগামী ৫ বছরে বা ১০ বছরে বা ২০ বছরে মুসলিম বিশ্বে ঈমান ইসলাম বিধ্বংসী কর্মকান্ড বিস্তারের। এমতাবস্থায় মুসলিম বিশ্বেরও সর্বত্র ইসলাম বিস্তারের ৫ বছর বা ১০ বছর বা ২০ বছরের টার্গেট থাকা উচিত। কিন্তু তা না হয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের শত্র“দের টার্গেট বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা প্রস্তুত। আল্লাহ আমাদের হিদায়াত দান করুন এবং ইসলাম বিরোধী চক্রান্ত হতে হেফাযত করুন আমীন।
উপসংহারে আল্লাহ তা‘আলার বাণীর মাধ্যমে আহ্বান জানিয়ে শেষ করতে চাই, আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوَاْ إِن تُطِيعُواْ فَرِيقًا مِّنَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ يَرُدُّوكُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ كَافِرِينَ - وَكَيْفَ تَكْفُرُونَ وَأَنتُمْ تُتْلَى عَلَيْكُمْ آيَاتُ اللّهِ وَفِيكُمْ رَسُولُهُ وَمَن يَعْتَصِم بِاللّهِ فَقَدْ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ - يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি কিতাবপ্রাপ্তদের (ইয়াহুদ খ্রীষ্টানদের) কোন দলের অনুকরণ কর, তাহলে ঈমান আনার পর তারা তোমাদিগকে কাফিরে পরিণত করে দেবে। আর তোমরা কিভাবে কাফির হতে পার, অথচ তোমাদের সামনে পাঠ করা হয় আল্লাহর আয়াতসমূহ এবং তোমাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহর রাসূল, যারা আল্লাহকে (তাঁর দীনকে) আঁকড়িয়ে ধরবে তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে সরল পথের। হে ঈমানদানগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক এবং অবশ্যই মুসলিম না হয়ে মৃত্যু বরণ করনা।’’ সূরা আলে ইমরান: ১০০-১০২
Post By *MD NEKBOR ALI Razvi*

visit করুন????www.SunniDuniya.in এ

Sign In or Register to comment.