الصلوۃ والسلام علیک یا رسول اللہ (صلی اللہ علیہ وسلما) اللہ رب محمد صلی علیہ وسلما و علی زویہ والہ ابدالدھور وکرما আসসলাতু ওয়াসসলামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম).
Gulam-E-Mustafa Hoon Din Ka Paigam Laya Hoon, Pilaan-E-Ke Liye Ahmad Raza Ka Jaam Laya Hoon.

প্রশ্নঃনাবী কারীম সাল্লাহো আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি নেতা হতে পারেন??

প্রশ্নঃ নবী কারীম সাল্লাল্লাহো আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি নেতা হতে পারেন? অনেক মাওলানা বলেন যে, আমার নেতা তোমার নেতা বিশ্ব নবী মোস্তফা,কথাটা কথটুকু যৌক্তিক??? উত্তরঃ আল্লাহ্‌র নামে আরম্ভ যিনি অসীম করুণাময় ও দয়ালু সমস্ত জাহানের খালিক ও মালিক।। প্রণিধানযোগ্য বিষয় হচ্ছে, মহান আল্লাহর প্রিয়তম রাসূল, আখেরী পয়গাম্বর আমাদের প্রিয় নবী হুযূর পুরনূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম একাধারে নবী-রাসূল, শাহেদ তথা আল্লাহ্ প্রদত্ত বিশষে ক্ষমতা বলে উম্মতের নিকট হাজির-নাজির, সুসংবাদ দাতা, ভয় প্রদর্শনকারী, সাইয়্যেদ, ক্বায়েদ, ইমাম, আমীর, সুলতান, খতিব, হাকেম, মুসল্লী, হাজ্বী, গাযী, শহীদ, বীর, মুজাহিদ, আল্লামা, গায়েব তথা অদৃশ্যের খবরদাতা ইত্যাদি সহ সকল ভাল গুণেগুণান্বিত ছিলেন, আছেন ও থাকবেন। কিন্তু উম্মতে মুসলিমাহ্ তথা হক্কানী-রব্বানী অলি-গাউস, মুহাদ্দিস ও ফক্বিহগণ শুরু থেকে অদ্যাবধি মহান স্রষ্টার দরবারে সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহান সম্মানিত রাসূল হিসেবে এ মকবুল সত্তার শানে পাইকারীভাবে সবগুলো প্রিয় নবীর বেলায় যুক্ত করেননি বরং যে সব গুণাবলীর দ্বারা তাঁর অদ্বিতীয় শান ও অতুলনীয় মর্যাদা প্রকাশ পায় সে সব গুণাবলী তাঁর শানে যুক্ত করেছেন- তদুপরি পবিত্র ক্বোরআন মজিদে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর প্রিয়তম হাবীব রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে যে সমস্ত গুণে গুণান্বিত ও অভিধায় সিক্ত করেছেন তন্মধ্যে একটা বিশেষণকেই বেশী প্রধান্য দিয়েছেন, তা হচ্ছে রিসালত মানে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হওয়া। যেমন পবিত্র ক্বোরআনে আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ কনে- ﺍﻻﻟﻨﻌﻠﻢ ﻣﻦ ﻳﺘﺒﻊ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﻣﻤﻦ ﻳﻨﻘﻠﺐ ﻋﻠﻰ ﻋﻘﺒﻴﻪ - কেবলা পরিবর্তন তো এজন্যই যে, যাতে স্পষ্ট হয়ে যায় কারা সম্মানিত রাসূলের আনুগত্য করে আর কারা পিছুটান দেয়। [২:১৪৩] অন্যত্র এরশাদ হয়েছে- ﻳﺎﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﻣﻨﻮﺍ ﺍﻃﻴﻌﻮﺍ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻃﻴﻌﻮﺍ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﺍﻻﻳﺔ- হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর এবং নির্দেশ মান্য কর সম্মানিত রাসূলের। [৪:৫৯] রাসূলে পাক সাহেবে লাওলাক সাল্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন- ﻗﻞ ﻳﺎﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺍﻧﻰ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻴﻜﻢ ﺟﻤﻴﻌﺎ - অর্থাৎ আপনি বলুন, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর রাসূল। সুতরাং প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর জন্য অন্য সব গুণাবলী স্বীকার করলে ও যতক্ষণ পর্যন্ত সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হিসেবে স্বীকৃতি দিবে না ঈমানদার হতে পারবে না। দ্বিতীয়ত: পবিত্র ক্বোরআনে হাকীমের দর্শন মতে এমন কোন সাধারণ শব্দ রাসূলের শানে ব্যবহার করা যাবে না যাতে বাতিল মুনাফিকগণ প্রিয় নবীর শানে বেয়াদবী করার সুযোগ পায়। অথবা যে সব শব্দ আভিধানিক কিংবা ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণে একাধিক অর্থ বোঝায়, যদ্দরুণ কপট, গোস্তাখ ও দুশমনে রাসূলগণ কোন একটি অর্থকে ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করে শানে রিসালাতের প্রতি কটাক্ষ করার সুযোগ তালাশ করে- নেতা শব্দটি এ ধরনের একটি সাধারণ শব্দ। যারা প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নেতা শব্দটি ব্যবহার করে তারা সাইয়্যেদ শব্দের অর্থ নেতা বিধায় প্রিয় নবীর বেলায় তারা নেতা শব্দটি ব্যবহার করে। অথচ (ﺳﻴﺪ ) শব্দটি মহান আল্লাহ্ রাব্বুল ইজ্জতের শানেও হাদিসে পাকে ব্যবহৃত হয়েছে। মহান আল্লাহর শানে ব্যবহৃত ‘সাইয়্যেদ’ শব্দটির অনুবাদে কখনো ‘নেতা’ ব্যবহার করা যাবে না। তাই মহান আল্লাহর শানে যেখানেই ‘সাইয়্যেদ’ ব্যবহার হবে সেখানেই এর অর্থ হবে ‘মালিক’ ইত্যাদি। তদ্রুপ রাসূলে মুকাররাম নূরে মুজাস্সাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর শানে ব্যবহৃত ‘সাইয়্যেদ শব্দের অর্থ হবে (ﺍﻓﻀﻞ) তথা সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম। প্রিয় রাসূলের বেলায় এর অর্থ নেতা করা যাবে না। কারণ ব্যবহারিকভাবে ‘নেতা’ শব্দটি ‘রাসূল’ শব্দটির সমমানের তো নয়ই, কাছাকাছিও নয়। এমনকি রাসূলের শানে ‘নেতা’ শব্দের প্রয়োগ শানে রিসালত এর মানহানি পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত। যে সব বেয়াদব সম্মানিত নবী-রাসূলগণকে আমাদের মত সাধারণ মানুষ, দোষে-গুণে মানুষ বলে বেড়ায় তারাই- আমাদের নবী এবং অন্যান্য নবী-রাসূলগণের শানে নেতা শব্দটি বেশী প্রয়োগ করে আনন্দ পেতে দেখা যায়। এটা মূলত চরম বেয়াদবী। কেননা আম্বিয়া-ই কেরাম এবং সরকারে দু’আলম এর শানে সাধারণ শব্দসমূহ প্রয়োগ করা বা সাধারণ শব্দ দ্বারা আহ্বান করা কটূক্তি ও বেয়াদবীর নামান্তর। যা ক্বোরআন করীমের আয়াত দ্বারা নিষিদ্ধ। যেমন মহান আল্লাহ্র বাণী- ﻻﺗﺠﻌﻠﻮﺍ ﺩﻋﺄ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﺑﻴﻨﻜﻢ ﻛﺪﻋﺎﺀ ﺑﻌﻀﻜﻢ ﺑﻌﻀﺎ ﺍﻻﻳﺔ- অর্থাৎ তোমরা প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে এমন সাধারণ শব্দ দ্বারা আহ্বান কর না যেমন তোমরা একে অপরকে (সাধারণ শব্দ দ্বারা) আহ্বান করে থাকো। [সূরা নূর: ৬৩] উক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা গেল প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং আম্বিয়ায়ে কেরামের শানে যে শব্দ ব্যবহার করা হবে তা অবশ্যই এমন সম্মানসূচক শব্দ হতে হবে, যা তাঁদের বিশেষ মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ হয়। নেতা শব্দটি নবীগণের ক্ষেত্রে বিশেষ শব্দ নয় বরং প্রত্যেকের ক্ষেত্রে এমন কি বিধর্মী দের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে এমনকি বিধর্মীদের ক্ষেত্রেও নেতা শব্দটি ব্যবহার করা হয়। হ্যাঁ রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই সুন্দরতম নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সফলতার সাথে রাষ্ট্রও পরিচালনা করেছেন এতে সন্দেহের অবকাশ নেই, তবে রিসালত ও নুবুয়তের আসন নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে অনেক অনেক উর্ধ্বে। সাধারণ মানুষ নেতা হতে পারে কিন্তু সাধারণ মানুষ নবী ও রাসূল হতে পারে না। রাসূল ও নবীগণ আল্লাহ্ কর্তৃক মনেীনীত ও নির্বাচিত হয়ে থাকেন। আর নেতা মানুষ কর্তৃক নির্বাচিত হয়। নেতা আজ আছে কাল নেই। নেতার মত একটা সাধারণ শব্দ দ্বারা নবীদেরকে সম্বোধন করা তাঁদের মান মর্যাদার পরিপন্থী। তাই হক্কানী ওলামা-ই কেরাম এ ধরনের শব্দ দ্বারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামসহ সকল আম্বিয়া-ই কেরামকে সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহর প্রিয় নবী ও সম্মানিত রাসূলগণের বেলায় আদব বজায় রাখা এবং তাঁদের প্রতি শব্দ প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে অতিব সম্মান সূচক শব্দ ব্যবহার করা অপরিহার্য। সামান্য আদবের পরিপন্থি হলে ঈমান ধ্বংস হয়ে যায়। সুতরাং এ সব বিষয়ে সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করা নেহায়ত জরুরি। [ফতোয়ায়ে রজবিয়া:সালাতুস্ সফাআলা মুনিরুল কৃত: ইমাম আ’লা হযরত শাহ্ আহমদ রেযা রহমাতুল্লাতায়ালা আলাইহি .] 

Sign In or Register to comment.