الصلوۃ والسلام علیک یا رسول اللہ (صلی اللہ علیہ وسلما) اللہ رب محمد صلی علیہ وسلما و علی زویہ والہ ابدالدھور وکرما আসসলাতু ওয়াসসলামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম).
Gulam-E-Mustafa Hoon Din Ka Paigam Laya Hoon, Pilaan-E-Ke Liye Ahmad Raza Ka Jaam Laya Hoon.

আরবী নতুন বছরের শুবেচ্ছা হিজরী সন *আপনি কি হিজরী বছর সম্পর্কে জানেন ? জানেন কি হিজরী সন কখন আরম্ভ হয়

*মুসলিম হিসেবে হিজরী নববর্ষ উদযাপন কিংবা মুসলিমদের গৌরবের দিনটি পালনের ঐতিহ্য আমাদের সংস্কৃতিতে ব্যাপকতা লাভ করেনি।*

*আমরা অনেকেই জানি না যে, মুসলিমদের নববর্ষ কোন মাসে হয়? আবার কেউ হয়তবা হিজরীবর্ষ গণনার সঠিক ইতিহাসও জানেনা।হিজরী সনের তারিখের খবরও রাখেনা।এর প্রতি মানুষ আকর্ষণও অনুভব করেনা,তা খুবি দুঃখজনক।আর আমরা যারা মুসলমান আমাদের হিজরী সন সম্পর্কে জানাটা আবশ্যক।আর সেই লক্ষেই আজ আমার এই লেখা। আশা করি লেখাটি বিস্তারিত পড়ে দেখবেন।*

*আল্লাহ পাক তার ইবাদতের জন্য যেমন মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন, তেমনি তাদের হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে নবী ও রাসূল(আলায়হিমুসসাম)গণকে প্রেরণ করেছেন।তাঁরা নিজেদের সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টা, শ্রম-সাধনা এ পথে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন।দিন-রাত মানুষকে আহ্বান করেছেন আল্লাহর পথে।*

*কিন্তু খুব কম লোকই নবী রাসূল(আলায়হিমুসসাল্লাম)গণের হক্বের দাওয়াতকে কবুল করেছে।অধিকাংশ লোক তাদের দাওয়াতকে অস্বীকার করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং আল্লাহর এই প্রিয় বান্দাদেরকে নানাভাবে অত্যাচার ও নিপীড়নও করেছে। তাঁদের ইবাদতে-দ্বীনিদাওয়াতে বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।এবং তাদেরকে মাতৃভূমি থেকে উৎখাত করার, এমনকি হত্যা করার চক্রান্তও করা হয়েছে।*

*যেমন কুরাইশদের এমন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আল্লাহপাক জানায়,*
*وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ الَّذِينَ كَفَرُواْ لِيُثْبِتُوكَ أَوْ يَقْتُلُوكَ أَوْ يُخْرِجُوكَ وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللّهُ وَاللّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ*
*এবং হে মাহবূব,স্মরণ করুন,যখন কাফির (গোষ্ঠী) আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিলো যে আপনাকে বন্দি করে রাখবে কিংবা শহীদ করবে অথবা নির্বাসিত করবে এবং তারা নিজেদের মতো ষড়যন্ত্র করছিলো; আর আল্লাহ নিজের গোপন কৌশল (প্রয়োগ) করছিলেন; এবং আল্লাহর গোপন কৌশল সর্বাপেক্ষা উত্তম।(সূরা আনফাল ৩০)*

*কাফিরদের এসব গর্হিত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ফলে একদিকে যেমন তারা আল্লাহর কঠিন আযাবের উপযুক্ত হয়ে যেত অন্যদিকে এতে এই সকল নবীদের জীবনে আল্লাহর রাহে কুরবানী, সবর ও মহাব্বতের কঠিন পরীক্ষাও হয়ে যেত।এহেন কঠিন পরিস্থিতিতেই তাঁদের জীবনে নেমে আসত হিজরতের আসমানী আদেশ*

*হিজরী একটি চন্দ্র নির্ভর বর্ষপঞ্জি।এটি চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে।আর পৃথিবীব্যাপী মুসলমানগণ অনুসরণ করেন ইসলামের পবিত্র দিনসমূহ উদযাপনের জন্য।৬২২ খ্রীষ্টাব্দের আল্লাহর নির্দেশে সায়্যাদুল মুরসালীন খাতামান নাবিয়্যীন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রিয় সাথী খোলাফায়ে রাসুল হজরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিআল্লাহু আনহুকে নিয়ে মক্কা থেকে উত্তরে অবস্থিত ইয়াসরিব শহরে (মদীনা) হিজরত করেছিলেন।*

*সেই সময় মদীনার সর্বস্তরের জনগন মহানবী ﷺ*
*কে(দরুদ)*  
*طلع البدر علينا, من سانية البداع* ‘
*তালা আল বাদরু আলাইনা মিন সানিয়াতিল বিদা।*
*وجب الشكر علينا, ما دعا لله داع* 
*ওয়াজাবাশ শুকরু আলাইনা,মা দা‘আ লিল্লাহি দা’*। 
*أيها المبعوث فينا, جئت بالأمر المطاع* 
*আইয়্যুহাল মাব উসু ফি-না,জি’তা বিল আমরিল মুতা।* 
*جئت شارادا المدينة, مرحبا يا خير داع*
 *জি’তা শাররাদ্দাল মাদিনা,মারহাবান ইয়া খাইরা দা*।

*অর্থাৎ:“পূর্ণিমার চাঁদ উদিত হয়েছে আমাদের উপর বিদা পাহাড়ের চূড়া থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের জন্য ওয়াজিব আহবানকারীর আল্লাহর প্রতি আহবানের বিনিময়ে। যতদিন পর্যন্ত আল্লাহর পথের দিকে কোনো একজন আহ্বানকারী থাকবে।আমাদের মাঝে প্রেরিত হে প্রিয়জন! আপনি বাধ্যতামূলক আনুগত্যের নির্দেশনা নিয়ে এসেছেন,এসেছেন অকল্যাণসমূহ দূর করতে। শুভেচ্ছা স্বাগতম! হে সর্বোত্তম পথের প্রতি আহ্বানকারী।”বলে বলে সবাই অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেছিলেন*। 

*রাসুলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মভূমি ত্যাগ করার ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যেই ইসলামে 'হিজরত' আখ্যা দেয়া হয় বা হিজরী সাল গণনার সূচনা হয়।হিজরতের ১৭তম বর্ষে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু এর শাসনামলে চন্দ্র মাসের হিসাবে এই পঞ্জিকা প্রবর্তন করা হয়। হিজরতের এই ঐতিহাসিক তাৎপর্যের ফলেই হযরত ওমর রাদিআল্লাহু আনহু এর শাসনামলে যখন মুসলমানদের জন্য পৃথক ও স্বতন্ত্র পঞ্জিকা প্রণয়নের কথা উঠে আসে তখন তাঁরা সর্বসম্মতভবে হিজরত থেকেই এই পঞ্জিকার গণনা শুরু করেন।যার ফলে চান্দ্রমাসের এই পঞ্জিকাকে বলা হয় ‘হিজরী সন’*

✽ *ইসলামে রমযানের রোযা,ঈদ,হজ্ব,যাকাত ইত্যাদি ক্ষেত্রগুলোতে চান্দ্রবর্ষ বা হিজরী সন ধরেই আমল করতে হয়। রোযা রাখতে হয় চাঁদ দেখে,ঈদ করতে হয় চাঁদ দেখে।এভাবে অন্যান্য আমলও।অর্থাৎ আমাদের ধর্মীয় কতগুলো দিন-তারিখের হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্র রয়েছে,সেগুলোতে চাঁদের হিসাবে দিন,তারিখ,মাস ও বছর হিসাব করা আবশ্যকীয়। মুসলমানদের(আমাদের) জন্য ‘হিজরী সন অনুসরণ করা জরুরি।*

*কুরআন মজীদে হজ্বের বিষয়কে চাঁদের ওপর নির্ভরশীল ঘোষণা করা হয়েছে।আল্লাহ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন-*
*يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَج*ِّ *
*তোমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে।বলে দাও যে এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজ্বের সময় ঠিক করার মাধ্যম।(সূরা বাকারা ১৮৯)*

*রোযার বিষয়কে চাঁদের ওপর নির্ভরশীল ঘোষণা করা হয়েছে।সূরা বাক্বারাহ আল্লাহপাক ইরশাদ করেন*
*شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ*
*রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন,যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে,সে এ মাসের রোযা রাখবে।(সূরা বাক্বারাহ ১৮৫)*

*রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে ইফতার কর।(সহীহ বুখারী ১৯০৯)*

 হিজরী মাসের নামসমূহ নিম্নরূপ-
মুহররম محرّم
সফর صفر
রবিউল আউয়াল ربيع الأول
রবিউস সানি ربيع الآخر أو ربيع الثاني
জমাদিউল আউয়াল جمادى الأول
জমাদিউস সানি جمادى الآخر أو جمادى الثاني
রজব رجب
শা'বান شعبان
রমজান رمضان
শাওয়াল شوّال
জ্বিলকদ ذو القعدة
জ্বিলহজ্জ ذو الحجة*

*বন্ধুরা►আমাদের উচিত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হিজরতের তাৎপর্য স্পষ্টভাবে জনসম্মুখে তুলেধরা এবং হিজরী সন অনুসরণ করা।*

*Post by Md Nekbor Ali Razvi*

*ভালো লাগলে শেয়ার করে সবাকে জানিয়ে দিন।*

*যাজাকাল্লাহুখায়রান*


Comments

Sign In or Register to comment.